সমাজবিজ্ঞানী ও লেখক জওশন আরা রহমান আর নেই


জওশন আরা রহমান। ছবি: সংগৃহীত

সমাজবিজ্ঞানী ও লেখক জওশন আরা রহমান মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই ২০২৪) এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।বার্ধক্যের কারণে তিনি মারা গেছেন বলে জানিয়েছে পরিবার।

জওশন আরা রহমান ১৯৫২ সালে রচিত একুশের প্রথম কবিতা ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’র রচয়িতা ভাষাসৈনিক ও কবি মাহাবুব-উল-আলম চৌধুরীর সহধর্মিণী।

জওশন আরা রহমানের স্বজন আনোয়ার চৌধুরী বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন।এক মাস ভর্তি ছিলেন হাসপাতালে।সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।

জওশন আরা ১৯৩৬ সালের ১৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়ার চুনতি গ্রামের মুন্সেফ বাড়িতে জন্ম নেন।১৯৫২ সালে চট্টগ্রাম নগরের ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করেন।চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় ১৯৫৫-১৯৫৬ সালে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্র সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন।১৯৫৭ সালে কলেজের বার্ষিক ম্যাগাজিন ‘অন্বেষা’ সম্পাদনা করেন।

১৯৫৭ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রী সংসদের চট্টগ্রাম জেলা শাখার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।এরপর ১৯৫৮ সালে বিএ পাস করেন।সমাজকল্যাণ বিভাগে ১৯৬৪-৬৫ সালে চাকরিরত অবস্থায় নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটন শহরে ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা এবং ১৯৬৭ সালে ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।পারে ১৯৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে তৎকালীন ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার থেকেও স্নাতকোত্তর করেন।

১৯৭৯ সালে জওশন আরা রহমান ইউনিসেফের মহিলা কর্মসূচির প্রধান হিসেবে যোগ দেন।পরে তিনি প্ল্যানিং ও মনিটরিং বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব পান।১৯৯৬ সালে ইউনিসেফ থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি রয়েল ড্যানিশ অ্যাম্বাসির টেকনিক্যাল উপদেষ্টা হিসেবে শিশু অধিকার ফোরামের সঙ্গে কাজ করেন। অবসরে যাওয়ার আগে কানাডিয়ান ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সিতে (সিআইডিএ) কর্মরত ছিলেন।

তাঁর প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে স্মৃতিকথা ‘একটি অজানা মেয়ে’, ‘মাহবুব উল আলম চৌধুরী স্মরণে বরণে’ উল্লেখযোগ্য।