পর্ব-৩ : নঈম-শোন, ঈদানীং রাস্তায় বের হলেই মানুষ দুঃখের গল্প শোনাতে চায় আমাকে।ব্যাপারটা কেমন বল তো,
নীলা-বুঝিনি।বুঝায়ে বল।
নঈম-গতকাল তিনটি জায়গায় গেলাম।প্রথমে বাসে গেলাম।বাসে একজন যাত্রী আমাকে তার জীবনের গল্প শোনাতে শুরু করলেন। তার ভাইকে নাকি জ্বিনে ভর করেছে।এরপর আরেক জায়গায় গেলাম লেগুনায়।এমন সময় একজন লেখক ফোন দিয়ে বলেন, “ভাই একটা চাকরি দরকার। আগে যেখানে চাকরি করেছি, সেই প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্টটি বন্ধ হয়ে গেছে। জানেন তো ঢাকায় প্রচুর খরচ। চাকরি দরকার।” শেষে রাতে বাসায় ফিরছিলাম অটোরিকশায়। অটোরিকশার ড্রাইভার শুরু করলেন এই বলে, “ভাই এই ঢাকায় কেউ আসে টাকা ধরতে, কেউ আসে টাকা বিলাইতে, কেউ আসে টাকা পাহারা দিতে। কত রকমের মানুষ যে এই শহরে।”
নীলা-ভালো তো। তরে সবাইকে জীবনের চিত্রগুলো দেখায়-বিষয়টি খারাপ না।হয়তো তাদের দুঃখগুলো বলে কিছুটা তারা মেন্টালি চাপ কমায়।এটা তুই পজিটিভলি ভাবিস।
নঈম-সত্যি বলতে কি, আমি যেমন তরে সব বিষয়ে শেয়ার করতেছি। ঠিক তেমনি আমি যখন রাস্তায় চলি, আশেপাশের মানুষগুলোর গল্প শোনার চেষ্টা করি।এই বিচিত্র জীবনযাপনের আখ্যানগুলো শোনার চেষ্টা করি। কেন জানি ওরাও আমাকে ফ্রাঙ্কলি বলে দেয়। ইন্টারেস্টিং।
নীলা-তর জীবনটাও তো গল্পের মতোনই।
নঈম-হ।
নীলা-জীবন নিয়ে জীবনানন্দ দাশের একটি কবিতা আছে। তিমিরহননের গান শিরোনাম। তরে শোনাচ্ছি-“কোনো হ্রদে
কোথাও নদীর ঢেউয়ে
কোনো এক সমুদ্রের জলে
পরস্পরের সাথে দু-দণ্ড জলের মতো মিশে
সেই এক ভোরবেলা শতাব্দীর সূর্যের নিকটে
আমাদের জীবনের আলোড়ন-
হয়তো বা জীবনকে শিখে নিতে চেয়েছিলো।”
নঈম-বাহ! দারুণ তো।আসলে জীবনানন্দ দাশের কবিতার কথা অনেক শুনেছি।কিন্তু কখনো এভাবে ভাবিনি।তবে কিছুদিন আগে ফেসবুকে জীবন নিয়ে একটা পোস্ট দেখেছিলাম, “Life is what happens while you are busy making other plans”। এই কথাটিও ভালো লেগেছে।
নীলা-কাল কি তুই বিজি থাকবি?
নঈম-কেন?
নীলা-হসপিটালে যেতে হবে।
নঈম-কে অসুস্থ?
নীলা-আমার কলিগের ছেলেটা হাসপাতালে ভর্তি।দেখতে যাওয়া দরকার।
নঈম-যা। আমার সময় হবে না। অফিসের কাজের চাপে চেপ্টা হয়ে যাচ্ছি।ওই শোন, চা খেয়ে আবার আসছি..ওয়েট।
নীলা-ওকে।
চলবে..
কুশিগাঙ (পর্ব-৩) ॥ সাইফ বরকতুল্লাহ

অলঙ্করণ: লংরিড