কুশিগাঙ (পর্ব-২): নঈম-গত কয়েকদিনের ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’ মাগুরার মেয়েটা মারা গেছে, জেনেছস কিনা?
নীলা-না! তো। কবে মারা গেলো? সারা দেশে তো ওর ধর্ষণের ঘটনায় বেশ তোলপাড় দেখলাম।
নঈম-কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ দেখলাম, সংবাদে ওই শিশুটির মাকে বলতে শোনা যায়, “আমার মণি যেভাবে মরছে, আমি তারও (অপরাধীর) ফাঁস দিয়ে বিচার চাই। (তার) এরম মৃত্যু চাই আমি, আমার মণির যেমন বেলেড দিয়ে কাটছে, গলায় ফাঁস দেসে, ঠিক সেরকম বিচার চাই আমি আপনাদের কাছে।ওরে যেন ওইরকম ফাঁসি দিয়ে মারে।ওরকম যেন ওরে বেলেড দিয়ে কাটে। আমার মেয়েটারে যে কষ্ট দিছে না? আমি তারেও এরকম দেখতে চাই।”
নীলা-সত্যিই বেদনাদায়ক।সিনেমাতেও মনে হয় এরকম ঘটনা ঘটে না। মেয়েটির ক্ষেত্রে যা ঘটলো।এই ঘটনার অবশ্যই বিচার হওয়া উচিত।
নঈম-শোন, ইদানীং সন্ধ্যাগুলো কেমন বিষণ্ন হয়ে যাচ্ছে।সময়গুলো যাচ্ছে আর আঁধার কাটছেই না।
নীলা-হ্যাঁ, তবে আঁধারের পরই কিন্তু আলো আসে। সুতরাং এত উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। আজ ডিনার কই করবি?
নঈম-ভরপুর ইফতারি খেয়েছি।ডিনার নাও করতে পারি।
নীলা-আমার অফিসে কয়েকটি দিন খুব ঝামেলা যাচ্ছে রে। আর ভাল্লাগে না।এতো কাজের চাপ।তর অবস্থা কী?
নঈম-ভাইয়া আজ ফোন দিয়ে জানালো, আগামী জুনে দেশে আসবে। হয়তো বিয়েটা সেরে ফেলতে চায়। আমি আছি, কেটে যাচ্ছে। নতুন চাকরি খুঁজছি।
নীলা-কেন? এই চাকরি সমস্যা কী?
নঈম-নানার ধরনের সমস্যা। কয়টা তকে বলবো?
নীলা-আগেই ছাড়িস না।ভালো একটায় জয়েন কর, তারপর। তা নাহলে তো বিপদে পড়বি।
নঈম-তা ঠিক বলেছস। দেখি কী করা যায়। ভাইয়া এলে তো আরো কাজের চাপে পড়বো।
নীলা-তো সমস্যা কী! ম্যানেজ করে নিবি। প্রতিদিন পরিকল্পনা করে কাজ করবি। দেখবি সব সহজ হয়ে গেছে।
নঈম-তর বিয়ের কথা শুনেছিলাম। কী অবস্থা?
নীলা-আরে ধুর! বিয়েশাদী নিয়ে আপাতত ভাবছি না।স্কলারশিপটা হয়ে যাবে মনে হচ্ছে। আপাতত মাথায় এটাই রাখছি।
নঈম-কোন দেশে অ্যাপ্লাই করেছিস?
নীলা-আচ্ছা কনফার্ম হোক। তখন জানাবো।
নঈম-আজ বাইরে আবহাওয়াটা বেশ রোমান্টিক।
নীলা-বের হো, ঘুরে আয়।
নঈম-একা যাব?
নীলা-তর না অনেক বন্ধু, কাউকে ম্যানেজ কর।
নঈম-হুম।একটাও কাজের না। হুদাই সব।
নীলা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বন্ধু নিয়ে একটা কবিতা আছে, নাম ‘দুই বন্ধু’। পড়েছিস?
নঈম-আরে না! আমার কবিতা-টবিতা পড়ার অভ্যাস নাই।
চলবে..
কুশিগাঙ (পর্ব-২) ॥ সাইফ বরকতুল্লাহ

অলঙ্করণ: লংরিড